নরসিংদী জেলা আ’লীগের সভাপতি ও সম্পাদককে অব্যাহতি

ডেস্ক রিপোর্ট: নরসিংদী জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে দলীয় পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে তাঁদের অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে স্পট কিছু বলেনি কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ।

বৃহস্পতিবার (১৯ নভেম্বর) আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির দপ্তর সম্পাদক বিপ্লব বড়ুয়া স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।অব্যাহতি পাওয়া সভাপতি মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম নরসিংদী সদর আসনের সাংসদ এবং সাধারণ সম্পাদক আবদুল মতিন ভূঁইয়া জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের গঠনতন্ত্রের বিধি মোতাবেক নরসিংদী জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক আবদুল মতিন ভূঁইয়াকে তাঁদের দলীয় পদ থেকে অব্যাহতি প্রদান করা হয়েছে। একই সঙ্গে জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি জি এম তালেবকে ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক পীরজাদা কাজী মো. আলীকে ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব প্রদান করা হয়েছে।

দলটির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, নরসিংদীতে জেলা আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা এত দিন সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক দ্বন্দ্বে মূলত দুই ভাগে বিভক্ত ছিল। একপক্ষে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সদর আসনের সাংসদ মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম, অন্য পক্ষে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আবদুল মতিন ভূঁইয়া। দুই পক্ষই নিজেদের নেতা-কর্মীদের নিয়ে আলাদা আয়োজনে জাতীয় অনুষ্ঠান ও দলীয় কর্মসূচি পালন করে আসছিল। দলীয় বিভাজনের কারণে জেলা আওয়ামী লীগ সাংগঠনিকভাবে ক্রমে দুর্বল হয়ে পড়ছিল। গত জাতীয় নির্বাচনের পর থেকে এই বিভাজন তীব্রভাবে স্পষ্ট হয়ে ওঠে।

সর্বশেষ চলতি বছরের ৮ মার্চ নরসিংদীর মনোহরদীতে শিল্পমন্ত্রী নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূনের বাসভবনে আয়োজিত জেলা আওয়ামী লীগের এক জরুরি বর্ধিত সভায় এ নিয়ে আলোচনা হয়। এ সময় নিজেদের বিভেদ ভুলে দুজনকে একসঙ্গে কাজ করতে নির্দেশ দিয়েছিলেন দলটির ঢাকা বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদক মির্জা আজম। পরে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক আবদুল মতিন ভূঁইয়া উপস্থিত সবার সামনে কোলাকুলি করেন। কিন্তু পরবর্তী সময়ে তাঁরা কেউই নিজেদের বিভেদ ভুলতে পারেননি।

সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে পদ থেকে অব্যাহতির সিদ্ধান্তে জেলার নেতা-কর্মীদের ভাষ্য, জেলা আওয়ামী লীগের এই শীর্ষ দুই ব্যক্তির বিভাজন এতটাই স্পষ্ট যে বিভিন্ন জাতীয় বা রাষ্ট্রীয় কোনো দিবসের সভা-সমাবেশ বা অনুষ্ঠানে একপক্ষের কেউ উপস্থিত থাকলে অন্য পক্ষের কেউ থাকতেন না। এমনকি দুই পক্ষই নিজেদের কর্মীদের নিয়ে আলাদাভাবে আয়োজন করে আসছিলেন এসব অনুষ্ঠান। বিভাজনের এই রাজনীতির কারণে দলীয় সব কর্মসূচি বাধাগ্রস্ত হলেও সংকট নিরসনের উদ্যোগ ছিল না কোনো পক্ষেরই। সব ধরনের বিভেদ, ভুল–বোঝাবুঝি ও দলীয় কোন্দল ভুলে সবাইকে একসঙ্গে নিয়ে কাজ করতে না পারলে দল এগোয় না।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *